ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ড কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়: দেলাওয়ার হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৪:২৯:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৪:২৯:২৬ অপরাহ্ন
ফ্যামিলি কার্ড কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়: দেলাওয়ার হোসেন
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ফ্যামিলি কার্ডকে কোনো দলের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনে জয়লাভের পর তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন আবার উপনির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—সবার ওপরে বাংলাদেশ, নাকি বিএনপি? তাঁর অভিযোগ, এখন দলের নেতাকর্মীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না—এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড তাদের দাদার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি। অথচ এই কার্ডের মাধ্যমে যে টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা ১৮ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকা। এটি কোনো দলের সম্পত্তি নয়।” জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের চেয়ে কৃষকদের সময়মতো সার পাওয়া, সারের সিন্ডিকেট বন্ধ করা, বিদ্যুৎ ও তেলের দাম কমানো এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের দরকার নেই, আমাদের দরকার কৃষকরা যেন ঠিকমতো সার পান। আমরা গ্যাস চাই, বিদ্যুৎ চাই। এসব দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিতে হবে।” আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জনগণের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তা না হলে ডিসেম্বরের পর জনগণই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনকে তিনি জনগণের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের প্রতিবাদ জানাতে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে পৌরসভার অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে এসব রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়নের চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ ও ঠাকুরগাঁও গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকের প্রভাব বেড়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তাঁর দাবি, মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের আয়ের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “মাদক বিক্রিতে যারা সহযোগিতা করে, তারা কীভাবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়বে? আমরা বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করব।” নির্বাচনী উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ